টিউশনির টাকা জমিয়ে বাবা-মাকে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি উপহার

জীবনযাপন

পড়ালেখার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়ানোর টাকা জমিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার অনল কুমার দাস (২৫) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী। তিনি ফেদু নামেই বেশি পরিচিত। ফেদু উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পবনবেগ মালোপাড়ার বাবু অমর কুমার দাসের ছেলে এবং ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

কলেজছাত্র অনল কুমার দাসের বাবা বাবু অমর কুমার দাস জানান, আমার পাঁচ ছেলেমেয়েদের মধ্যে সবার ছোট ফেদু। সে যখন তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তখন থেকে শিশু শিক্ষার্থীদের পড়ানো শুরু করে। সেই থেকে টিউশনি ওর পেশা থেকে নেশায় পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে মহামারি করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ছেলেমেয়েরা বই থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থায়ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ধাপে ধাপে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন ফেদু। ফেদুর বাবা অমর কুমার বলেন, ‘যে সময় তার লেখাপড়ার খরচ আমার বহন করার কথা সে সময় নিজেই পড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থ জমিয়ে একতলা বাড়িটি প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে।

আমি তাকে একটি টাকাও দেইনি। উল্টা সে তার উপার্জনের টাকা আমাকে দিয়েছে।’ ফেদুর এমন কর্মে প্রসংসায় ভাসছেন এলাকায়। তিনি তার এই বাড়ি বাবা-মাকে উপহার দিয়েছেন বলে জানান। সব সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে চান বলেও জানান ফেদু।

এলাকায় দানবীর, ঢাকায় গাড়ি চোর

শানু হাওলাদার (৫৫)। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার। তার বাবার নাম আব্দুস সাত্তার হাওলাদার। শানু এলাকায় দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও ঢাকায় তিনি পুলিশের খাতায় একজন পেশাদার ছিনতাইকারী ও গাড়ি চোর। ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার নামে রয়েছে ডজনখানেকেরও বেশি মামলা।

এসব মামলায় তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করেছেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) একটি টিম বাউফল থানা পুলিশের সহায়তায় একটি ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার করার পর ফের আলোচনায় আসেন শানু হাওলাদার।

শানু হাওলাদার ওরফে শানু মেম্বার নিজ গ্রামে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন দানশীল ব্যক্তি। এলাকায় নানান ইতিবাচক কর্মকাণ্ড করে বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারও নির্বাচিত হয়েছেন। বাউফল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটিতেও সদস্য হিসেবে রয়েছে তার নাম।

এলাকায় তিনি শানু মেম্বার হিসেবে পরিচিত। অবশ্য জেলা বিএনপির নেতা আলী আজম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের কারণে দলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। একাধিক এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শানু হাওলাদার ওরফে শানু মেম্বার ছিলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

কিশোর বয়সে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কেয়ারটেকারের (তদারকির) কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ বছর পর হঠাৎ একদিন এলাকায় এসে শানু মেম্বার নিজেকে ঢাকায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও বড় ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করেন।

এক পর্যায়ে হতদরিদ্রদের মধ্যে নগদ টাকা, চাল, ডাল ও কাপড় বিতরণ শুরু করেন। নেছার উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, শানু মেম্বার এলাকার মানুষের কাছে একজন বটবৃক্ষ। তার কাছে কোনো অসহায় ব্যক্তি সাহায্যের জন্য গেলে তিনি সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

দীর্ঘ বছর ধরে এলাকার হতদরিদ্রদের সাহায্য করার কারণে দানবীর হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়েছে তার। মো. ফারুক হোসেন নামের অপর এক ব্যক্তি বলেন, শানু মেম্বার ঢাকায় কী করেন না করেন আসলে আমরা কিছুই জানতাম না। তিনি (শানু) এলাকায় একজন সৎ ইউপি সদস্য হিসেবে পরিচিত।

তার বিরুদ্ধে সরকারি কোনো বরাদ্দ চুরি করার অভিযোগ নেই। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ঈদ উপহার হিসেবে জনপ্রতি ৪৫০ টাকা বিতরণ করেন তিনি। নির্দিষ্ট তালিকায় থাকা সুবিধাভোগীদের বাইরেও পকেট থেকে অতিরিক্ত ব্যক্তিদের দান করেন তিনি।

এলাকার দরিদ্র নারী-পুরুষের কাছে প্রকৃত সমাজসেবক হিসেবে জনপ্রিয় শানু মেম্বার। বাউফল থানার ওসি আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার একটি ছিনতাই মামলায় শানু মেম্বারের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়।

ওই মামলায় ডিএমপির একটি দল বাউফল থানা পুলিশের সাহায্যে শানু মেম্বারকে গ্রেফতার করে। ডিএমপির একটি সূত্র জানায়, ঢাকার বিভিন্ন থানায় শানু মেম্বারের বিরুদ্ধে একধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে অধিকাংশই গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা। ঢাকায় তার রয়েছে একটি বাহিনী।

এই বাহিনীর সদস্যরা সিএনজি, ট্যাক্সিক্যাবসহ বিভিন্ন গাড়িতে যাত্রী বেশে উঠে চালককে অজ্ঞান করে গাড়ি ছিনতাই করে। এই চক্রের সঙ্গে ঢাকার অভিজাত এলাকার বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়ির দারোয়ান ও কেয়ারটেকারদের সখ্য রয়েছে।

এই সখ্যতার সুবাদে শানু বাহিনী নানান অপকর্ম করে বেড়ায়। বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমার পরিষদের কোনো সদস্য যদি অপরাধ করে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এজন্য আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।