ফুটবল খেলার আড়ালে যেভাবে ইহুদীদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহায়তা করছে ‘চেলসি’

খেলাধুলা

ফিলিস্তিনে অবৈধভাবে ইহুদী বসতি স্থাপনে সহায়তা করছেন রাশিয়ান অভিজাতদের অন্যতম এবং ইংলিশ ফুটবল ক্লাব চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচ। বিবিসি এরাবিকের অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে আসে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তারা এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, রাশিয়ান অভিজাত ব্যক্তিত্ব এবং চেলসি ফুটবল ক্লাবের মালিক রোমান আব্রামোভিচের নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি কোম্পানি, ফিলিস্তিনে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনের জন্য ‘ইলাদ’ নামক একটি বসতি নির্মাণকারী সংস্থাকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

উদ্বেগের বিষয় হল, ওই কোম্পানিটি পূর্ব জেরুসালেমে অবৈধভাবে ইহুদী বসতি নির্মাণকারী একটি সংস্থা, যারা আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেখানে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। ইলাদ সেই সংস্থা যারা ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুসালেমের পার্শ্ববর্তী সিলওয়ান শহরকে হিব্রুতে ‘আইর ডেভিড’ বা দাউদের শহর বলে ডাকে!

ইলাদ সংস্থাটি সিলওয়ান বা দাউদের শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোও পরিচালনা করে থাকে। অতি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থাপনায় ভরপুর এই শহটি পর্যটকদেরও প্রচুর পরিমাণে আকর্ষণ করে থাকে। বছরে প্রায় এক মিলিয়নেরও বেশি লোক এই শহরটিতে বেড়াতে আসেন।

ইলাদের সাবেক মার্কেটিং ডিরেক্টর শাহার শিলো বিবিসি এ্যারাবিকে সাক্ষাৎকার প্রদানকালে বলেন, ইলাদের লক্ষ্য হল সিলওয়ানের আকর্ষণীয় পর্যটন খাত ব্যবহার করে দাউদের শহরে একটি ভিন্নমাত্রার ইহুদী রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করা।

ইলাদ তাদের কাজের জন্য তহবিলের উপর নির্ভরশীল। ২০০৫ -২০১৮ সালের মধ্যে তাদের প্রাপ্ত তহবিলের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপপুঞ্জের ৪টি কোম্পানি থেকে। ওই কোম্পানিগুলোর আড়ালে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারে এখনো কিছুই জানা যায়নি।

ফিন্সেন ফাইলস নামে নথিগুলো মূলত বাজফিড নিউজের কাছে ফাঁস করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে তারা তদন্তকারী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিবিসির সাথে শেয়ার করে নেয়। নথিগুলোতে রোমান আব্রামোভিচের নামটিও সামনে আসে।

সেখানে তাকে ইলাদকে আর্থিক সহায়তাকারী চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটির সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশের মালিক রূপে এবং চতুর্থ কোম্পানিরটির নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

ইলাদের একাউন্টের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ইলাদকে ওই কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই বর্তমান ডলার রেট অনুযায়ী ১০০ মিলিয়নেরও বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। অর্থাত, বিগত ১৫ বছরে ইলাদের সবেচেয়ে বড় ডোনার হল চেলসি ফুটবল ক্লাবের মালিক একাই!

ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের দখলে থাকা অঞ্চলটিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যগুলো অনেক বিতর্কিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া, ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল ইলাদকে সিলওয়ানে অনুসন্ধানমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে আরো বেশি পরিমাণে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করার ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার সম্ভাবনাও প্রবল।

কেননা তারা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইলাদকে ফিলিস্তিনে অবৈধ বসতি ও স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দিয়ে দিয়েছে এমনকি তারা অবৈধভাবে বসতিও নির্মাণ করে যাচ্ছে। আব্রামোভিচের মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, মি.আব্রামোভিচ হলেন ইসরাইল এবং ইহুদী সম্প্রদায়ের নিকট অঙ্গীকারবদ্ধ তাদের একনিষ্ঠ সমর্থক।

ইসরাইলে এবং বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও শিক্ষা-দীক্ষায় সহযোগিতার জন্য বিগত ২০ বছরে তিনি ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

আব্রামোভিচের এই তহবিল ব্যাতীত ইলাদ এতোদ্রুত সাফল্যের সাথে ফিলিস্তিনে অবৈধভাবে ইহুদীদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে কোনোভাবেই সক্ষম হতো না।

ইলাদের অবৈধ বসতির কিছু অংশ ফিলিস্তিনীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কিনে নেওয়া হলেও বেশিরভাগ বাড়ির মালিকানা কিন্তু ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে অন্য ইহুদীদের মাধ্যমে জবরদখলকৃত। আর এই অবৈধ মালিকানা যাকে তারা বৈধ বলে দাবী করে থাকে, তা তথাকথিত ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’ নামে উদ্ভট এক ইসরাইলের আইনের মাধ্যমে!

ইসরাইলের ভাষ্যমতে, ওই আইনটিই তাদেরকে ওই সমস্ত ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি নিজের করে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে যেসব সম্পত্তির মালিকেরা সংঘাতের সময় বাড়িঘর ছেড়ে চলে গিয়েছে বা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে ‘সুমারিন বংশের বাড়ি’ যা ইলাদের ভিজিটর সেন্টারের একেবারে পাশেই অবস্থিত। বর্তমানে সেখানে একই পরিবারের ১৯ জন সদস্য বসবাস করছে যাদের মধ্যে কনিষ্ঠতমের বয়স ২ মাসেরও কম!

আমাল সুমারিন যিনি বর্তমান সুমারিন প্রজন্মের মা তিনি তার সন্তানদের বলেছিলেন, যখন আমার বিয়ে হয় তখন আমি এখানে চলে আসি। আমার স্বামী তার চাচা হাজ্বী মুসা সুমারিনের সাথে এখানেই বসবাস করতো।

যখন মুসা সুমারিনের স্ত্রী ইন্তেকাল করে তখন আমার মনে আছে যে, আমি চাচা মুসা সুমারিনের দেখভাল করতাম এবং রান্নাবান্না করে তাকে খাওয়াতাম। আর আমার স্বামী তাকে গোসল ইত্যাদি ও ডাক্তারের কাছে আনা-নেওয়ায় সহযোগিতা করতো।

আমাল সুমারিন বলেন, চাচা মুসা সুমারিন আমাদেরকে বলতেন, হে আমার প্রিয় মেয়ে! এই ঘর তোমার এবং তোমার স্বামীর। ১৯৮৩ সালে যখন চাচা মুসা সুমারিনও ইন্তেকাল করেন তখন ১৯৮৭ সালে ইসরাইলের তথাকথিত ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইনের’ আওতায় তার বাড়িটিকে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে ওই বাড়িটি জিউশ ন্যাশনাল ফান্ড জেএনফের সহকারী সংস্থা হেমনুতাহর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। জেএনএফের অন্যতম লক্ষ্য উদ্দেশ্য হল ইহুদী জনগণের পক্ষে জমি ক্রয় এবং এর ব্যপক বিস্তৃতি।

১৯৯১ সালে হেমনুতাহ অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের আদালতকে সুমারিনদেরকে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে মামলা দায়ের করে।মূলত তখন থেকেই ফিলিস্তিনি সুমারিন পরিবারটি এনজিও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সহায়তা ও অর্থায়নে আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

বিগত ১০ বছর যাবত সুমারিনদের পক্ষে আইনীলড়াই চালিয়ে যাওয়া আইনজীবী মুহাম্মাদ দাহেলী বিবিসি এ্যারাবিকে বলেন, ফিলিস্তিনি সম্পত্তিকে যখন ইহুদীদের অথবা ইসরাইলের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া হয়, তখন সেই সম্পত্তি ফিলিস্তিনিদের কাছে ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য।

ও.. হ্যাঁ, জেরুসালেমে অবস্থিত ইহুদীবাদী ইসরাইলের ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট গত আগস্টে সুমারিনদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। তারা এখন ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে, যার শুনানি হবে আগামী বছরের এপ্রিলে। তাছাড়া বিবিসির অনুসন্ধানী দল ১৯৯১ সালে হেমনুতাহ সংস্থাকে পাঠানো ইলাদের একটি চিঠি পায় যেখানে ফিলিস্তিনে সংঘটিত অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে ইলাদের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।

চিঠিতে,সুমারিন পরিবার সহ পুরো সিলওয়ান শহরের অন্যান্য পরিবারগুলোকেও তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে মামলা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার বিষয়টি হেমনুতাহ সংস্থাকে নিশ্চিত করেছে অবৈধ বসতি নির্মাণকারী সংস্থা ইলাদ।

উচ্ছেদ সম্পর্কিত মামলার বিষয়ে প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি জেএনএফের সহকারী সংস্থা হেমনুতাহ। অপরদিকে অবৈধ বসতি নির্মাণকারী সংস্থা ইলাদও মামলার জন্য তাদের আর্থিক তহবিল এখনো বহাল রেখেছে কি না তা নিশ্চিত করেনি।

ইলাদের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ডোরোন স্পিলম্যান বিবিসির কাছে তথাকথিত ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইনের’ দোহায় দিয়ে দাবি করেন যে, তাদের সমস্ত সম্পত্তি ন্যায্য এবং আইনী প্রক্রিয়ায় অর্জিত। তার দাবি, কোনও ফিলিস্তিনিকে আদালত এবং আইনী প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে সিলওয়ান, আইর দাউদ বা দাউদের শহরে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়নি।

সুমারিন পরিবারের আইনজীবী মুহাম্মাদ দাহেলীকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বিবিসিকে জানান, নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ইহুদীবাদী ইসরাইল উদ্ভট আইনের আওতায় এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় ফিলিস্তিনী জাতিগোষ্ঠীকে।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্ব থেকে আসা বাড়ন্ত তহবিলের পাশাপাশি ইলাদের প্রভাবও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কেননা আমেরিকার সরকারের উপর তাদের প্রভাব এখন একেবারেই প্রকাশ্য। ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ বসতি স্থাপনের কট্টর সমর্থক ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেডম্যান।

জেরুসালেমকে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার পিছনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন এই ডেভিড ফ্রেডম্যান। এমনকি তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনে ইলাদের অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় ২০২০ এ তথাকথিত শান্তি প্রক্রিয়ার আওতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে এই ইহুদী প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত এলাকাগুলোকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

আর এভাবেই সারা পৃথিবী থেকে আসা অর্থ, মুসলিমবিরোধী শক্তিগুলোর সমর্থন এবং মুসলিম নামধারী মোনাফেকদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য স্বীকৃতির ফলেই ফিলিস্তিনকে দখল করে নিচ্ছে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। আর দিনদিন মলিন হয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে স্বপ্ন।

সূত্র: বিবিসি এরাবিক,ডাব্লিউএএফএ

আরো পড়ুন: আমিরাত-ইসরাইল এমন সম্পর্ক শরিয়তের দৃষ্টিতে হারামঃ বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ

ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব মুসলিম ওলামাদের সর্ববৃহত সংগঠন “বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ”।

এছাড়া সমগ্র ইসলামী উম্মাহকে এই চুক্তি প্রত্যাখানের অনুরোধ জানিয়ে ‘বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ’ মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সম্পর্ককে শরিয়াতের দৃষ্টিতে হারাম ফতোয়া দিয়েছে।

মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বিশ্বের প্রভাবশালী ২০০ আলেম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশ নেন। ফতোয়ায় বলা হয়, ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত এ শান্তিচুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ

এবং অকার্যকর বলে সাব্যস্ত হবে। এছাড়া এটি বড় অপরাধ, সর্বশক্তিমান আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে খিয়ানত এবং ফিলিস্তিন, ভূমি-জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে।

সূত্র : আল জাজিরা

আরো পড়ুন: পেঁয়াজের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

পেঁয়াজ মজুদ করে বাড়তি দামে বিক্রি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ছবিটি আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে তোলা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম পেঁয়াজ মজুদ করে বাড়তি দামে বিক্রি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। পেঁয়াজের সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কোনো সংগত কারণ নেই।

পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক থেকে পেঁয়াজ মজুদদার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

আজ সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এবং বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম,

অতিরিক্ত সচিব (আমদানি) মো. হাফিজুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসানসহ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে দেশের চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সভায় পর্যালোচনা করা হয়। পেঁয়াজের মজুদ, আমদানি ও সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়। দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে।

পেঁয়াজের সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কোনো সংগত কারণ নেই বলেও বৈঠক থেকে জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে আরো বলা হয়েছে, পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করেছে।

পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অবিলম্বে খোলা বাজারে ট্রাক সেলের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে, নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখবে।

আরো পড়ুন: বিশ্বে ১ কোটি ২০ লাখ ইহুদি ঐক্যবদ্ধ আর ১৩০ কোটি মুসলমান বিভক্ত : ইমরান খান

বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ জরুরি দাবি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ‘প্রভাবশালী, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকায় মাত্র এক কোটি ২০ লাখ ইহুদিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব টু শব্দটি করছে না।

অথচ ১৩০ কোটি মুসলমানকে বিশ্বের সর্বত্র নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।’ মঙ্গলবার আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক মালয়েশীয় থিংকট্যাংকদের একটি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। বিভক্তির কারণেই মুসলমানরা সর্বত্র নির্যাতিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে ইমরান খান বলেন,

‘লড়াই করতে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হোক, সেটা আমরা চাই না, কিন্তু অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করুক।’ পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানসহ সর্বত্র মুসলমানদের বিপর্যয়ের কাহিনী।

এর কারণ হচ্ছে- আমাদের কোনও ঐক্য নেই। আমাদের মধ্যে বিভক্তির কোনও শেষ নেই।’ এমনকি অধিকৃত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মুসলমান দেশগুলো বলেও জানান ইমরান খান।

দুইদিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষ দিকে একটি কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন,’ মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের জবাব হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর ঐকবদ্ধ হওয়া। কাজেই মিয়ানমার ও কাশ্মিরে যা ঘটছে, যেখানে কেবল ধর্মের কারণে মুসলমানদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে, এমন বিষয়গুলোতে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক সাংঘর্ষিক অবস্থা কেটে গেছে জানানা ইমরান খান।

আরো পড়ুন- চুমু খেয়ে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদ জানালেন সুইডেনের অমুসলিম নারী

চুমু খেয়ে কুরআনুল কারীম অবমাননার প্রতিবাদে জানালেন অমুসলিম এক সুইডিশ নারী। চুমু খাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় সুইডেনের মালমো শহরে সংঘটিত কুরআনুল কারীম পোড়ানোর প্রতিবাদে ওই অমুসলিম নারী কুরআনে চুমু খান। আর বলেন, ‘সুইডিশ