লুকাকুকে খাওয়াতে রাতে অনাহারে থাকতেন মা

খেলাধুলা

ইন্টার মিলানের জার্সিটা গত মৌসুম থেকেই তাঁর গায়ে, তবে রোমেলু লুকাকু পাকাপাকিভাবে ইন্টারের হয়েছে এবারই। রেকর্ড ৮ কোটি ইউরোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে এবার ইতালিতে স্থায়ী আবাস গড়েছেন লুকাকু। বেতনের দিক থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারদের একজন এই বেলজিয়ান স্ট্রাইকার।

বর্তমানে ফুটবলাররা অনেক বুদ্ধিমান। অতীতের তারকাদের মতো সব বিলাসে উড়ান না। বরং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে নিশ্চিত করেন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। চাইলেই এখন বিশ্বের যে কোনো একটা দামি রেস্তোরাঁর মালিক হতে পারেন এই বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। খুলতে পারেন রেস্তোরাঁর চেইনও।

চাইলেই রেস্তোরাঁর সব ক্রেতাকে বিনা মূল্যে এক বেলা খাওয়াতেও পারেন। অথচ এক সময় অভাবের তাড়নায় লুকাকুর মাকে কাজ করতে হয়েছে বেলজিয়ামের রেস্তোরাঁয়! লুকাকুদের খাওয়া নিশ্চিত করতে না খেয়ে থাকতে হতো তাঁদের মাকে।বিশ্বের বেশির ভাগ তারকা ফুটবলারের মতোই লুকাকুকে উঠে আসতে হয়েছে প্রচণ্ড সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

এক সময় টাকার অভাবে ফুটবল খেলতে পারতেন না। লুকাকুর বুটে থাকত বড় বড় ফুটো। কত দিন যে দুধের সঙ্গে পানি মেশাতে দেখেছেন মাকে, তার ঠিক নেই। অভাবের যন্ত্রণায় ফ্লোরে শুয়েছেন ইঁদুরের সঙ্গে বিছানা ভাগাভাগি করে। পেশাদার ফুটবলার বাবা অভাবের তাড়নায় ঘর থেকে বেঁচে দিয়েছিলেন শখের টেলিভিশন।

রাতে বাসায় ফিরে দেখতেন সব ঘরের বাতি নেভানো। বিদ্যুৎ বিল দিতে পারতেন না লুকাকুর বাবা। অন্ধকারে পড়ে থাকতেন সপ্তাহের পর সপ্তাহ। গোসল করতে গিয়ে দেখতেন ঠান্ডা পানি। মা তড়িঘড়ি করে স্টোভে পানি গরম করে দিতেন।ফুটবলটা পায়ে পেলেই বদলে যেতেন লুকাকু। যখন শট নিতেন, যেন অভাবকেই লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দিতে চাইতেন লুকাকু। প্রতিটি ম্যাচকেই মনে করতেন ফাইনাল।

প্রতিভা আর যোগ্যতা দিয়ে বেলজিয়ামের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব আন্ডারলেখটে নাম লেখালেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ২০০৯ সালের ১৩ মে। স্বপ্নের সেই দিনটির কথা মনে করে লুকাকু বলছিলেন, ‘আমি ওদের হয়ে খেলার জন্য মরিয়া ছিলাম। আমার জীবনের অন্যতম একটা স্বপ্নটা সত্যি হয়েছিল সেদিন।’যে লুকাকু টাকার অভাবে একটা ভালো বুট কিনতে পারতেন না, তিনিই কিনা বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের অংশ।

বিশ্বকাপ খেলেছেন, খেলেছেন ইউরো। চেলসি, এভারটন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ঘুরে এখন খেলছেন ইতালির অন্যতম সেরা ক্লাবে। লুকাকুর এই পর্যায়ে উঠে আসায় বড় অবদান তাঁর মায়ের। লড়াই সংগ্রামের সেই ধূসর অতীত কখনোই ভুলতে পারেননি লুকাকু, ‘বাবা যখন খেলা ছেড়ে দেন তখন আমার বয়স মাত্র ছয় বছর। আমার মা ডায়াবেটিসে ভুগতেন। ওই সময়টা বেশ কয়েক বছর কষ্টে কেটেছে আমাদের।

এমনও হয়েছে চুলায় হাঁড়ি জ্বলত না দিনের পর দিন। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় কাজ করা মা নিজের জন্য বরাদ্দ যে রাতের খাবারটুকু পেতেন তা কখনোই খেতেন না। দুই ছেলের মাঝে ভাগ করে দিতেন খাবারগুলো। ওই কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগ ছুঁয়ে যায় লুকাকুর, ‘আমার মায়ের কাছে কোনো অর্থ ছিল না। এ জন্য তাঁকে রেস্তোরাঁয় কাজ করতে হতো। ম্যাচ শেষে আমার ভাই ও আমি রেস্তোরাঁয় গিয়ে বসে থাকতাম।

মা কখনোই রেস্তোরাঁ থেকে দেওয়া রাতের খাবার খেতেন না, যাতে আমরা ওই খাবার খেতে পারি।’মায়ের সহযোগিতা ছাড়া যে এখানে আসতে পারতেন না সেটাই বলছিলেন লুকাকু, ‘আমি আমার সবকিছু মা অ্যাডোলফিনকে উৎসর্গ করতে চাই। কারণ তিনি ছাড়া আজকের এই অবস্থানে উঠে আসতে পারতাম না কখনোই।’শৈশবে দু মুঠো খেতে পারতেন না লুকাকু।

সূত্র: প্রথম আলো