আর শিখতে চাই না, এখন জিততে হবে: অধিনায়ক মুমিনুল

খেলাধুলা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কোনো ম্যাচ হারলেই শোনা যায় একটি কথা, ‘এখনও শিখছে টাইগাররা’- তাদের এই শেখার অধ্যায় ঠিক কবে শেষ হবে তা জানা নেই কারও। তবে শেখার অধ্যায় শেষে নিয়মিত জয়ের আশায় বুক বাঁধেন সবাই। যেকোনো ব্যর্থ সিরিজের পর এই শেখার মন্ত্রেই যেন ঢেকে দেয়া হয় সকল ব্যর্থতা।

তবে আর শিখতে চান না জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক। তার এখন একটাই লক্ষ্য, জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর তিনি সাফ বলেছিলেন, ২০ বছর ধরে টেস্ট খেললেও কোনো উন্নতি হয়নি বাংলাদেশ দলের। সঙ্গে আরও জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর আগপর্যন্ত থাকে উন্নতির সুযোগ।

সেই মুমিনুলই এবার বেরিয়ে এসেছে শেখার বৃত্ত থেকে। তার মতে, ২০ বছর পরেও যদি শিক্ষানবীশ পর্যায়ে থাকতে হয়, তাহলে আগামী দশ বছরের মধ্যে দেশের ক্রিকেটে আর কিছু বাকি থাকবে না। তাই যত বেশি সম্ভব জয়ের দিকেই এখন মনোযোগ টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক।

জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমি আর শিখতে চাই না। আমরা গত ২০ বছর ধরে শিখছি। এখন যদি আরও ১০ বছর শিখতে হয়, তাহলে আমাদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যাবে। এই শেখার পুরো প্রক্রিয়াটাই মূল্যহীন, যদি আপনি জিততে না পারেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদেরকে দ্রুত শিখতে হবে এবং সেটা মাঠে করে দেখাতে হবে। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আমরা যদি আমাদের র‍্যাংকিং বাড়াতে না পারি, তাহলে এই শেখা কিংবা অভিজ্ঞতার কোনো মানে নেই। আমাদের এখন টেস্ট ক্রিকেট শেখার চেয়ে জিততে হবে বেশি।’

জাতীয় ক্রিকেট দল এখন তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ডে। তবে সীমিত ওভারের দলে না থাকায় মুমিনুল নেই এই সফরে। নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই শ্রীলঙ্কায় উড়ে যেতে হবে বাংলাদেশ দলকে। যেখানে রয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

এ সিরিজের প্রস্তুতি কেমন চলছে? টাইগার অধিনায়কের উত্তর, ‘আমি নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছি। টেস্ট স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য এখানে আছে, বাকিরা বেশিরভাগই নিউজিল্যান্ডে। আমার মতে, এই সময়টার মধ্যে নিজেদের টেকনিক্যাল দুর্বলতাগুলো শুধরে স্কিল বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ।’

মুমিনুলের কণ্ঠে অপর্যাপ্ত প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার আক্ষেপ, ‘দেখুন, ম্যাচ খেলা ছাড়া আপনি যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারবেন না। আমি মনে করি, জাতীয় ক্রিকেট লিগের মাধ্যমে আমাদের ভালো প্রস্তুতি হতে পারে। আমি বুঝতে পারছি যে আমরা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে ইনজুরিতে থাকায় বেশি ম্যাচ খেলতে পারিনি। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামার আগে আমি দুইটি চারদিনের ম্যাচ খেলব। আশা করছি প্রস্তুতিটা ভালো হবে।’

শ্রীলঙ্কার মাটিতে আসন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে টেস্ট অধিনায়কের মন্তব্য, আমি মনে করি পুরো টেস্ট সিরিজটাই চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ আমরা প্রায় এক বছর পর (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) টেস্ট খেলেছি এবং ফল নিজেদের পক্ষে রাখতে পারিনি। নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি খেলে আসার পর কয়েকজন ছোট বিরতি নিয়ে টেস্ট স্কোয়াডে যোগ দেবে। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ খুব কম সময়ের মধ্যে তাদেরকে লঙ্গার ভার্শনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।