আইপিএলের টাকা দিয়ে অক্সিজেন কিনুন: শোয়েব আখতার

খেলাধুলা

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলে উঠতে পারছে না ভারত। ভেঙে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। রাত পোহালেই সংক্রমণ ও আক্রান্তের নতুন রেকর্ড শুনতে পাচ্ছেন ভারতীয়রা।গোটা ভারত মৃত্যুপুরীতে পরিণত। অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন করোনা রোগীরা।

আর এমন মৃত্যুপুরীতে চলছে দেশটির জমজমাট ফ্রাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ)।বিষয়টি নিয়ে বিতর্কিত টুইট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন সাবেক অসি তারকা ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

এবার একই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেন পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতার। তার মতে, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইপিএলের চেয়ে অক্সিজেন ট্যাংক অধিক জরুরি। তাই আইপিএল বন্ধ করে, সেই টাকা অক্সিজেন কেনার পরামর্শ দিয়েছেন শোয়েব।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসখ্যাত শোয়েব বলেন, ‘ভারত এখন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের এখন আইপিএল বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ দেশটি পুড়ছে। তাই এটি পিছিয়ে দেওয়াই শ্রেয়।

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) পিছিয়ে দেওয়ায় আমি এটা বলছি না। আমি মনে করি, জুনে পিএসএলও হওয়া উচিত নয়। আমি বলতে চাচ্ছি জীবনের চেয়ে খেলা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই আইপিএল বন্ধ করে এর পেছনে যে অর্থ খরচ হতো তা দিয়ে অক্সিজেন ট্যাংক কিনুন।

এতে মরতে বসা মানুষগুলো বাঁচবে। সত্যিকার অর্থে আমাদের এখন ক্রিকেটীয় বিনোদন প্রয়োজন নেই। আমাদের ভারত ও পাকিস্তানে মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে।’ প্রসঙ্গত মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণে নাকাল অবস্থা ভারতের। দিনে দিনে বাড়ছে রোগী, বাড়ছে মৃত্যু। শ্মশানে দিন-রাত জ্বলছে চিতা।

হাসপাতালে শয্যার সংকট, অক্সিজেন সংকটসহ নানা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে।দেশটিতে রোববার দুই হাজার ৭৬০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। অনেক জায়গায় নাইট কারফিউ চলছে। তার মধ্যেও আইপিএল নিয়ে উন্মাদন দৃষ্টিকটূ লাগছে শোয়েবসহ অনেকের।

তথ্যসূত্র: ইউটিউব, টুইটার

ধর্মের পথে বদলে গিয়েছে যে ৫ ক্রিকেটারের জীবন

ধর্ম হচ্ছে এমন এক দর্শন ও বিশ্বাস যা মানুষকে আলোর পথের সন্ধান দেয়। হৃদয়ের অন্ধকারকে দূরে ঠেলে জ্যোতির্ময় করে তোলে মনপ্রাণ। পৃথিবীতে ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ নিজ নিজ ধর্মের প্রতি অনুগত। আবার অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় রিচ্যুয়েলস অর্থায় আচার-আচরণ, বিধিবিধান ও রীতিনীতি পালনে সদা তৎপর। তারা জীবনকে ধর্মের আলোকে চালিত করে।

ধর্মীয় অনুশা’সন দ্বারা হয় চালিত। আমরা এমন অনেককেই চিনি এবং জানি যারা একেকজন বড় বড় কিংবদন্তি, সুপারস্টার। কিন্তু ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা কম। অথচ এই তারকারা ধর্মের পথ অনুসরণ করে জীবনে সফলতার চর’ম শিখরে আরোহন করেছিলেন।

ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেট মাঠের ৫ মুসলিম ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন। যারা কিনা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে করেছেন সমুজ্জল। ছাড়িয়ে ছাপিয়ে গেছেন নিজেদেরও। শুধুমাত্র ধর্মের পথে চলে ক্রিকেট মাঠের গজে একেকজন বনে গেছেন মহাতারকা।

১. সাইদ আনোয়ার : সাঈদ আনোয়ারকে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আদর্শ ভাবা হয়। মেয়ের মৃত্যুর পর শোকে মুহ্যমান এই এই ক্রিকেটার জীবনে প্রথমবার ধর্মের পথে শান্তির সন্ধান পেয়েছিলেন। তার পর থেকেই তাবলিগে জামাতের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজ শুরু করেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরই নিয়ম করে হাজির হন এই আইডল ব্যাটসম্যান।

২. মুহাম্মদ ইউসুফ : বোলারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোনও ছা’ড় দেয়নি তার ব্যাট। যদিও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভদ্র ও বিনয়ী ক্রিকেটার বলা হয় তাকে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী ইউসুফ ইউহানা একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করেছেন। অবসর নেয়ার পর থেকে সক্রিয়ভাবে ধর্মপ্রচারের কাজে যুক্ত আছেন।

৩. হাশিম আমলা : তার মুখের সদা মৃদ্যু হাসিটা যেন ক্রিকেট বিশ্বের চোখে লেগে থাকে। আউট হলেও এতটুকু রেগে যান না। হেরে গেলেও না। হালের ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা। তাকে বলা হয় প্রোটিয়াদের রানমেশিন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কখনো রমজান মাসে খেলতে হলে রোজা রেখেই মাঠে নামেন তিনি। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর ‘ক্যাসেল’ (মাদক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কোম্পানির লোগো গায়ে টি-শার্ট পরেন না।

৪. ইনজামাম-উল-হক : পাকিস্তান ক্রিকেটে তাকে বলা হয় ‘খুঁটি ব্যাটসম্যান’। একবার সেট হলে যার সামনে বাঘা বাঘা বোলাররাও হার মানতো। মুলতানের সুলতান খ্যাত পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান এখন তাবলিগ জামাতের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইসলাম প্রচারে রত।

৫. মইন আলী : বর্তমান ইংলিশ দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মইন আলীর পারফরমেন্স চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি ইসলাম ধর্মের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার দাঁড়িকে ইসলামের পরিচয় হিসেবে দেখি, আর ধর্ম আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কোরআন আমার জীবনবিধান।