‘বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলে লজ্জার শেষ থাকবে না’

খেলাধুলা

৬ বছর আগেই ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিধর দেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় এসেছে। এই তালিকায় আছে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান। এছাড়া জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, উইন্ডিজের বিপক্ষে তো একাধিকবার সিরিজ জয়ের ইতিহাস আছে।

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কখনই টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জেতা হয়নি। সেই অধরা সিরিজ জয় অবশেষে ধরা দিয়েছে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে।

এখন শেষ ওয়ানডে জিতে লঙ্কানদের হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্নে বিভোর টাইগাররা। তবে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতুক এটা কিছুতেই চান না শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় তারকা সনৎ জয়সুরিয়া।

ইতিহাসে প্রথমবার তামিমদের কাছে সিরিজ হারে মাথা হেঁট করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার ও সমর্থেকদের। এই অবস্থায় নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচটি জিতে শ্রীলঙ্কাকে হৃত সম্মান কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক জয়সুরিয়া।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানালেন যে, বাংলাদেশের কাছে প্রথম সিরিজ হার মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন। জয়সূরিয়া এটাও বোঝেন যে, বাংলাদেশের হাতে হোয়াইটওয়াশ হতে হলে লজ্জার শেষ থাকবে না। তাই তিনি ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

জয়সুরিয়া টুইট করেন, ‘একজন সাবেক প্লেয়ার ও ক্যাপ্টেন হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের কাছে প্রথম সিরিজ হার মেনে নেওয়া আমার পক্ষে কঠিন। জাতীর সম্মান ঝুঁকিতে রয়েছে ছেলেরা, শেয ম্যাচ লড়াই চালাও।’ এখন দেখার যে, শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারে কিনা শ্রীলঙ্কা।

এদিকে সিরিজ জয় নিশ্চিত হলেও শেষ ওয়ানডের গুরুত্ব একটুও কমেনি বাংলাদেশের কাছে। প্রথম দুই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করা মেহেদী হাসান মিরাজ জোর দিয়ে বললেন, ‘ওয়ানডে সুপার লিগ চালু হওয়ার পর কোনো ম্যাচই এখন আর অর্থহীন নয়, নিয়মরক্ষার নয়।

শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের শেষ ম্যাচেও তাই আছে নানা হিসাব-নিকাশ। ১০ পয়েন্টে চোখ রেখেই মাঠে নামবে দল।’ তিন ওয়ানডের সিরিজটি এক ম্যাচ বাকি থাকতে ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের প্রথমবার সিরিজে হারানোর পাশপাশি ওয়ানডে সুপার লিগে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে তামিম ইকবালের দল। তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি। শেষ ম্যাচে জিতে সুযোগ আছে পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার।

সঙ্গে দেশের মাটিতে টানা তিনটি সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করারও। আগামী শুক্রবার (২৮ মে) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ধর্মের পথে বদলে গিয়েছে যে ৫ ক্রিকেটারের জীবন

ধর্ম হচ্ছে এমন এক দর্শন ও বিশ্বাস যা মানুষকে আলোর পথের সন্ধান দেয়। হৃদয়ের অন্ধকারকে দূরে ঠেলে জ্যোতির্ময় করে তোলে মনপ্রাণ। পৃথিবীতে ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ নিজ নিজ ধর্মের প্রতি অনুগত। আবার অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় রিচ্যুয়েলস অর্থায় আচার-আচরণ, বিধিবিধান ও রীতিনীতি পালনে সদা তৎপর। তারা জীবনকে ধর্মের আলোকে চালিত করে।

ধর্মীয় অনুশা’সন দ্বারা হয় চালিত। আমরা এমন অনেককেই চিনি এবং জানি যারা একেকজন বড় বড় কিংবদন্তি, সুপারস্টার। কিন্তু ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা কম। অথচ এই তারকারা ধর্মের পথ অনুসরণ করে জীবনে সফলতার চর’ম শিখরে আরোহন করেছিলেন।

ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেট মাঠের ৫ মুসলিম ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন। যারা কিনা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে করেছেন সমুজ্জল। ছাড়িয়ে ছাপিয়ে গেছেন নিজেদেরও। শুধুমাত্র ধর্মের পথে চলে ক্রিকেট মাঠের গজে একেকজন বনে গেছেন মহাতারকা।

১. সাইদ আনোয়ার : সাঈদ আনোয়ারকে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আদর্শ ভাবা হয়। মেয়ের মৃত্যুর পর শোকে মুহ্যমান এই এই ক্রিকেটার জীবনে প্রথমবার ধর্মের পথে শান্তির সন্ধান পেয়েছিলেন। তার পর থেকেই তাবলিগে জামাতের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজ শুরু করেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরই নিয়ম করে হাজির হন এই আইডল ব্যাটসম্যান।

২. মুহাম্মদ ইউসুফ : বোলারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোনও ছা’ড় দেয়নি তার ব্যাট। যদিও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভদ্র ও বিনয়ী ক্রিকেটার বলা হয় তাকে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী ইউসুফ ইউহানা একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করেছেন। অবসর নেয়ার পর থেকে সক্রিয়ভাবে ধর্মপ্রচারের কাজে যুক্ত আছেন।

৩. হাশিম আমলা : তার মুখের সদা মৃদ্যু হাসিটা যেন ক্রিকেট বিশ্বের চোখে লেগে থাকে। আউট হলেও এতটুকু রেগে যান না। হেরে গেলেও না। হালের ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা। তাকে বলা হয় প্রোটিয়াদের রানমেশিন।

তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কখনো রমজান মাসে খেলতে হলে রোজা রেখেই মাঠে নামেন তিনি। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর ‘ক্যাসেল’ (মাদক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কোম্পানির লোগো গায়ে টি-শার্ট পরেন না।

৪. ইনজামাম-উল-হক : পাকিস্তান ক্রিকেটে তাকে বলা হয় ‘খুঁটি ব্যাটসম্যান’। একবার সেট হলে যার সামনে বাঘা বাঘা বোলাররাও হার মানতো। মুলতানের সুলতান খ্যাত পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান এখন তাবলিগ জামাতের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইসলাম প্রচারে রত।

৫. মইন আলী : বর্তমান ইংলিশ দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মইন আলীর পারফরমেন্স চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি ইসলাম ধর্মের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার দাঁড়িকে ইসলামের পরিচয় হিসেবে দেখি, আর ধর্ম আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কোরআন আমার জীবনবিধান।