আবারো আফগানিস্তানে নেতৃত্বের পালাবদল

খেলাধুলা

আবারো নেতৃত্বে পরিবর্তন আনল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দেয়ার পরও সবশেষ ২০১৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় আসগর আফগানকে। তার পরিবর্তে নেতৃত্ব দেয়া হয় তরুণ ক্রিকেটার গুলবাদিন নাইবকে।

ক্রিকেট বোর্ডের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি দলটির তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবি ও রশিদ খানরা। আসগর আফগানকে বিশ্বকাপের আগে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার সময়ে নবি-রশিদ খানরা ভারতে আইপিএল খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। তারা সেখান থেকেই বোর্ডের এ সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানান।

বিশ্বকাপের ঠিক আগে হঠাৎ করে নেতৃত্ব পরিবর্তন করায় ফলও ভালো হয়নি। বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে টুর্নামেন্টের পরই নাইবকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে ফের অধিনায়ক করা হয় আসগর আফগানকে।

এখন আবারও আসগর আফগানকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে দলটির তারকা ব্যাটসম্যান হাসমতউল্লাহ শহীদিকে ওয়ানডে ও টেস্ট দলের অধিনায়ক করা হয়েছে। টেস্ট ও ওয়ানডেতে হাসমতউল্লাহর সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রহমত শাহ।

টি-টোয়েন্টির জন্য এখনো কোনো অধিনায়ক নির্ধারণ করা হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করবে আফগান ক্রিকেট বোর্ড। টি-টোয়েন্টিতে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন রশিদ খান।

ধর্মের পথে বদলে গিয়েছে যে ৫ ক্রিকেটারের জীবন

ধর্ম হচ্ছে এমন এক দর্শন ও বিশ্বাস যা মানুষকে আলোর পথের সন্ধান দেয়। হৃদয়ের অন্ধকারকে দূরে ঠেলে জ্যোতির্ময় করে তোলে মনপ্রাণ। পৃথিবীতে ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ নিজ নিজ ধর্মের প্রতি অনুগত। আবার অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় রিচ্যুয়েলস অর্থায় আচার-আচরণ, বিধিবিধান ও রীতিনীতি পালনে সদা তৎপর। তারা জীবনকে ধর্মের আলোকে চালিত করে।

ধর্মীয় অনুশা’সন দ্বারা হয় চালিত। আমরা এমন অনেককেই চিনি এবং জানি যারা একেকজন বড় বড় কিংবদন্তি, সুপারস্টার। কিন্তু ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা কম। অথচ এই তারকারা ধর্মের পথ অনুসরণ করে জীবনে সফলতার চর’ম শিখরে আরোহন করেছিলেন।

ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেট মাঠের ৫ মুসলিম ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন। যারা কিনা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে করেছেন সমুজ্জল। ছাড়িয়ে ছাপিয়ে গেছেন নিজেদেরও। শুধুমাত্র ধর্মের পথে চলে ক্রিকেট মাঠের গজে একেকজন বনে গেছেন মহাতারকা।

১. সাইদ আনোয়ার : সাঈদ আনোয়ারকে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আদর্শ ভাবা হয়। মেয়ের মৃত্যুর পর শোকে মুহ্যমান এই এই ক্রিকেটার জীবনে প্রথমবার ধর্মের পথে শান্তির সন্ধান পেয়েছিলেন। তার পর থেকেই তাবলিগে জামাতের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজ শুরু করেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরই নিয়ম করে হাজির হন এই আইডল ব্যাটসম্যান।

২. মুহাম্মদ ইউসুফ : বোলারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোনও ছা’ড় দেয়নি তার ব্যাট। যদিও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভদ্র ও বিনয়ী ক্রিকেটার বলা হয় তাকে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী ইউসুফ ইউহানা একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করেছেন। অবসর নেয়ার পর থেকে সক্রিয়ভাবে ধর্মপ্রচারের কাজে যুক্ত আছেন।

৩. হাশিম আমলা : তার মুখের সদা মৃদ্যু হাসিটা যেন ক্রিকেট বিশ্বের চোখে লেগে থাকে। আউট হলেও এতটুকু রেগে যান না। হেরে গেলেও না। হালের ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা। তাকে বলা হয় প্রোটিয়াদের রানমেশিন।

তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কখনো রমজান মাসে খেলতে হলে রোজা রেখেই মাঠে নামেন তিনি। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর ‘ক্যাসেল’ (মাদক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কোম্পানির লোগো গায়ে টি-শার্ট পরেন না।

৪. ইনজামাম-উল-হক : পাকিস্তান ক্রিকেটে তাকে বলা হয় ‘খুঁটি ব্যাটসম্যান’। একবার সেট হলে যার সামনে বাঘা বাঘা বোলাররাও হার মানতো। মুলতানের সুলতান খ্যাত পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান এখন তাবলিগ জামাতের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইসলাম প্রচারে রত।

৫. মইন আলী : বর্তমান ইংলিশ দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মইন আলীর পারফরমেন্স চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি ইসলাম ধর্মের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার দাঁড়িকে ইসলামের পরিচয় হিসেবে দেখি, আর ধর্ম আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কোরআন আমার জীবনবিধান।